প্রকাশিত: ০৯/০১/২০১৫ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
উখিয়া উপকূলে চর দখল করে হোটেল নির্মাণ ঃ গোপনে চলছে রমরমা পতিতা ব্যবসা

Sex
মাহমুদুল হক বাবুল, উখিয়া :
উখিয়া উপজেলার উপকূলে বঙ্গোপসাগরের জেগে উঠা চর ভুমিদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে দখল করে নিচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে টেকনাফের সেন্টমার্টিন পর্যন্ত অসংখ্য জেগে উঠা বিশাল চর এলাকায় বিলাস বহুল হাউজিং কোম্পানী ও হ্যাচারী মালিক, কটেজ মালিক এবং এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদ, আমলা, শিল্পপতিরা এসব চর দখল করে আলিশান ভবন নির্মানের পাশাপাশি গড়ে তুলছে বসত ভিটার উপযোগী বাড়ী ঘর। গড়ে তোলা হোটেলে চলছে রমরমা পতিতা ব্যবসা। অথচ স্থানীয় প্রশাসন এসব অবৈধ কর্মকান্ড দেখেও রহস্য জনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এ ধরনের কর্মকান্ডে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপকূলের শতাধিক ও উখিয়া সদরের শতাধিক জমির দালাল ভূয়া জন্ম নিবন্ধন দেখিয়ে জাল দলিল সৃজন করে অসংখ্য সরকারী জায়গা জমি দস্যুরা দখলে নিতে তৎপর হয়ে উঠেছে। জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধূরী বঙ্গোপসাগরের জেগে উঠা চর দখলের ব্যাপারে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাগরের জোয়ারের পানির তোড়ে জেগে উঠা চরগুলো যেভাবে ভূমি দস্যুরা দখল তৎপরতায় মেতে উঠেছে তাতে আগামী ২/১ বছরের মধ্যে উপকূলের কোন চর পরিত্যাক্ত বা খালী থাকবে কিনা এ ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট সন্দিহান রয়েছেন। আনোয়ার হোসেন চৌধুরী আরও জানান, জোয়ারের পানি প্রবেশ করে এলাকার ঘর-বাড়ী প্লাবিত হয়। এতে মানুষের ভোগান্তির অন্ত থাকে না। তিনি সোনার পাড়া বাজার থেকে মনখালী পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বেড়ি বাধঁ নির্মানের দাবী জানান। এছাড়া কিছু ভুমি ব্যবসায়ী ঢাকা শহরের নামী-দামী ব্যক্তিরা হ্যাচারী শিল্পের নামে অসংখ্য বিলাস বহুল ভবন ও তাদের মনোরঞ্জনের জন্য তৈরী করা হয়েছে আলিশান ঘর-বাড়ী। ঢাকা শহর থেকে আগত এসব ভুমির দালালেরা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন কায়দায় জমি কিনে নিয়ে প্রতারনার আশ্রয় নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী ভূমির দালালেরা জায়গা জমির দালালি কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এসব দালালদের তৎপরতা বন্ধের সরকারী কোন উদ্দ্যেগ না থাকায় ভুমি দালালেরা প্রতিনিয়ত নিরহ অসহায় মানুষের জমি কেড়ে নিয়ে আর্থিক ও মানষিক ভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। আর এতে নিরহ মানুষ সর্বশান্ত হয়ে অনেকেই বাড়ী ঘর হারিয়ে পথে পথে ঘুরছে। এসব ভুমিদস্যুদের নির্যাতনের শিকার অসহায় মানুষের তালিকা তৈরী করা হলে কতজন মানুষ তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে এর একটি সুষ্টু বিহীত ব্যবস্থা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উপকূলের শত শত মানুষ সরকারের আশু দৃষ্টি কামনা করে ভুমিগ্রাসীদের নিকট থেকে উপকূলের জমি ও পরিবেশ রক্ষার্থে জোর দাবী জানান। স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা হোটেলের মালিকরা বিভিন্ন স্থান থেকে পতিতা সংগ্রহ করে হোটেলে এনে চালাচ্ছে রমরমা পতিতা ব্যবসা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ইনানী, সোনারপাড়া সহ উপকূলীয় এলাকায় বেড়াতে আসলে তাদেরকে এসব পতিতাদের ভাড়া দেওয়া হয়। যার কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা আরও বলেন, ওই সব প্রভাবশালী হোটেল মালিকরা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকায় যদি অবৈধ ভাবে চর দখল করে হোটেল নির্মাণ করা হয় এবং পতিতা ব্যবসা করা হয় তাহলে তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত

সফরে বিনোদনের পাশাপাশি জীব-বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে উখিয়া কলেজ শিক্ষার্থীরা

সফরে বিনোদনের পাশাপাশি জীব-বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে উখিয়া কলেজ শিক্ষার্থীরা

পলাশ বড়ুয়া:: উখিয়া কলেজের বার্ষিক শিক্ষা সফর-২০২৫ সম্পন্ন হয়েছে আজ। নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রায় ...